উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম জং উন এর কলঙ্কিত সত্য!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০২০ , ৪:৫৩ অপরাহ্ণ

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে  সংশয় তৈরি হলেও তা বারবারই উড়িয়ে দিয়েছে দেশটি। তারা বলছে, কিম জং উন জীবিত আছেন, ভালো আছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ দক্ষিণ কোরিয়াও বলছে, কিম জং উন সুস্থ আছেন। তার মৃত্যুর খবর গুজব। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা মুন চুং ইন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের সরকারের অবস্থান দৃঢ়। কিম জং উন সুস্থ ও ভালো আছেন। ১৩ এপ্রিল থেকে তিনি পর্যটন শহর ওনসন এলাকায় অবস্থান করছেন। কোনো সন্দেহজনক চলাচল চোখে পড়েনি।’

কিম যদি সত্যিই ঠিক থেকে থাকেন তবে সেটি কিছু লোককে বরং হতাশ করে ফেলতে পারে। কারণ তারা কিমের বিলুপ্তির পাশাপাশি তার ছোট বোন, কিম ইও-জংকে স্পটলাইটে এনে ফেলেছেন। কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা ও মৃত্যুর আশঙ্কা নিয়ে যতই প্রশ্ন উঠছে, ততই কিম পরিবারের আরো একজন সদস্যের নাম বারবার সামনে চলে আসছে। তিনি হলেন কিমের প্রিয় ছোট বোন কিম ইও জং। কিম জং উনের পর উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী নেতা হিসেবে উঠে আসছে তার ছোট বোনের নামটাই।

জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে, তিনি কিম পরিবারের প্রথম মহিলা নেতা হতে পারেন। ইও জং একদিন মহিলা-স্বৈরশাসক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। যেটা মানবতাবিরোধী স্বৈরশাসনের দেশটিতে মেয়েদের ক্ষমতায়নের এক অনন্য নজির স্থাপন করবে। একজন বিশেষজ্ঞ ব্লুমবার্গকে বলেছেন, ‘উত্তর কোরিয়া … বিশ্বের অন্যতম পুরুষ শাসিত সমাজ, তবে কোরিয়া ওয়ার্কার্স পার্টির সুপারসিডিস লিঙ্গের মর্যাদায় রক্তের পরিপূরক রয়েছে।’

দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল যে কিম ইও-জং, যাকে কখনো কখনো ‘উত্তর কোরিয়ার ইভানকা ট্রাম্প’ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। ধারণা করা হয় তিনি তার ভাইয়ের দম্ভের পিছনে মস্তিষ্ক। ইও-জং সম্পর্কে খুব কম জানা যায়; এমনকি তার বয়সও অস্পষ্ট। পরিবারের আরো অনেক সদস্যের মতোই কিম ইও জংও অনেকটাই রহস্যময় চরিত্র। আর উত্তর কোরিয়াও কিম পরিবারের সদস্যদের কোনো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে না। তাই তাঁর সম্বন্ধে অনেক তথ্য রয়ে গেছে অজানা। ধারণা করা হয়, কিমের বোনের বয়স ত্রিশের কোঠায়। ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত অলিম্পিকের সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নজরে আসেন ইও জং।

উত্তর কোরিয়ার সাবেক শাসক প্রয়াত কিম জং ইলের পছন্দের সন্তান কিম ইও জং। সুইজারল্যান্ডে পড়াশোনা করেছেন ইও জং। সেখানে ব্যালে নৃত্যকলায়ও তালিম নিয়েছেন। তিনি ২০০০ সালের শুরুর দিকে উত্তর কোরিয়া ফিরে আসেন।

আরো পড়ুন

কিম ইও জং গত মাসে বলেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার ভাইয়ের মধ্যে পরমাণু অস্ত্র নিয়ে চলমান বিরোধ সত্ত্বেও ‘বিশেষ ও এবং দৃঢ় ব্যক্তিগত সম্পর্ক’রয়েছে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছিলেন তিনি। যদি বড় ভাইয়ের সাথে সত্যিই কিছু ঘটে থাকে তবে তিনি দেশটির সুপ্রিম নেতার হওয়ার দৌঁড়ে প্রথম পছন্দ। কিমের পুরুষ আত্মীয়রা হয় খুব কম বয়সী বা আগ্রহী নয়। তার বড় ভাই, কিম জং-চুল, সম্ভবত রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন। তিনি গিটার বাজানো পছন্দ করেন এবং রাজনীতিতে আগ্রহী নন। এরই মধ্যে ইও জং নিজেকে যে কোনো পুরুষের সমান প্রমাণ করেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে ইও জংকে উত্তর কোরিয়ার পলিটব্যুরোর বিকল্প সদস্য হিসাবে মনোনীত করা হয়, যা তার ক্রমবর্ধমান ক্ষমতার ইঙ্গিত বহন করে।

একজন বিশ্লেষকের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ‘উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাধর অভিজাতদের মধ্যে কিম ইও জংয়ের ক্ষমতার উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। আমি মনে করি, সে সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি।’ তবে ক্ষমতা হাসিলের দৌড়ে ইও জং একা নন। এ ছাড়া উত্তর কোরিয়ার পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো ইও জংয়ের ক্ষমতাসীন হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দেখা দিতে পারে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, কিম পরিবারের বংশানুক্রমিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশটির আলংকারিক বা নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান চোই রাঅং হাইয়ের নেতৃত্বে একটি সম্মিলিত শাসনব্যবস্থা বা রাষ্ট্র পরিচালনা পর্ষদ কার্যকর হলেও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কিম ইও জং হয়তো কেবল অন্তর্বর্তীকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রনেতা হিসেবে দায়িত্ব করবেন। তবে বলা বাহুল্য, কিম জং উনের  মৃত্যু বা দেশ পরিচালনায় অক্ষমতার ওপরই সবকিছু নির্ভরশীল। আর কিম জং উনের আসলে যে কী হয়েছে, তা এখনো অজানা।

কিমকে সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল গত ১১ এপ্রিল। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওদিন তিনি ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির নীতিনির্ধারণী কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে একটানা কয়েক সপ্তাহের জন্য কিমের লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাওয়া মোটেই অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। এর আগেও শারীরিক সমস্যার কারণে জনসমক্ষে না আসার ইতিহাস কিমের রয়েছে। তবে এবার জল্পনার ডালপালা এতটাই ছড়িয়েছে যে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মারা গেছেন কিংবা মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

সূত্র- গার্ডিয়ান।

 

আন্তর্জাতিক
২৯ এপ্রিল ২০২০