করোনা সন্দেহে সৎকারে এলেন না পরিবারের কেউ, দায়িত্ব নিলেন ইউএনও-সাংবাদিক

উপজেলা প্রতিনিধি | প্রকাশিত : ১০ মে ২০২০ , ৮:১৪ অপরাহ্ণ

করোনা সন্দেহে মৃত বাবার মুখাগ্নি করতে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলের অস্বীকৃতি ! পরিবারের সাড়া না পেয়ে সৎকারের দ্বায়িত্ব নিলেন ইউএনও-সাংবাদিক

কালিয়া (নড়াইল) প্রতিনিধিঃ নড়াইলের কালিয়ায় করেনা সন্দেহে মারা যাওয়া বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী (৫০)’র মরদেহ সৎকারে আসেনি পরিবারের কেউ। হিন্দুরীতিতে বাবার শেষকৃত্যে মুখাগ্নি করার কথা ছেলের, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলেও আসেনি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চাপে বাধ্য হয়ে এসে কোনরকমে দুর থেকে আগুন দিয়েই ছুট। এমনকি পরিবারের আপনজনেরাও কেউ আসেনি। নিরূপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই কয়েকজন সাংবাদিক নিয়ে মরদেহ সৎকার করেন। এ ঘটনায় কালিয়া সহ নড়াইলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

জানা গেছে, বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী ঢাকাতে একটি সিউিরিটি গার্ড কোম্পানীতে কর্মরত। করোনা উপসর্গ জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ২ দিন আগে গ্রামের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার খাশিয়াল ইউনিয়নের চোরখালি গ্রামে আসেন। গ্রামের বাড়িতে শনিবার রাতে কোন একসময় তিনি মারা যান। খবর পেয়ে মৃতের নমুনা সংগ্রহের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুদা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাজল মল্লিকসহ কয়েকজন পুলিশ তার বাড়িতে যান।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নমূনা সংগ্রহের পর সৎকার করতে বললে ভয়ে তার পরিবারের কেউ এগিয়ে আসেনি। এমন অবস্থায় স্থানীয় সাংবাদিক ও কয়েকজনকে সাথে নিয়ে শেষকৃত্য পালন করেছেন ইউএনও।

কালিয়া উপজেলার সাংবাদিক ফসিয়ার রহমান জানান, পরিবারের লোকদের মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। কিন্তু পরিবারের কেউ রাজী না হওয়ায় ইউএনওর অনুরোধে আমাদের কয়েকজনকে পিপিই পরানো হয়। কয়েকদফা অনুরোধের পরেও পরিবারের কেউ না আসায় একটি ভ্যানে মরদেহ তোলা এবং ভ্যান থেকে চোরখালী শ্মশানে মরদেহ নামানোর কাজে সরাসরি হাত দেন ইউএনও সাহেব। শ্মশানে নেবার পরে বিপত্তি বাধে মুখাগ্নি করা নিয়ে। এসময় কয়েক দফা ফোন দিলেও মৃত বিশ্বজিৎ রায়ের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলে দীপ রায় আসতে চায়নি, মৃতের ভাই মোহন রায়ও আসেনি। একপর্যায়ে ইউএনও নাজমুল হুদা অনেকটা কড়া ভাষায় শাসনের পরে ছেলে আসে। কোন রকমে একটি পাটকাঠির মাথায় আগুন ধরিয়ে দূর থেকে ছুড়ে দিয়েই সে পালিয়ে যায়। অতঃপর ইউএনও নাজমুল হুদা, দৈনিক খবরের জেলা প্রতিনিধি ফসিয়ার রহমান বেলা ১২টার দিকে ভ্যানচালক ও অন্য দুইজন লোক নিয়ে সৎকার সম্পন্ন করেনে।

আরো খবর:

কালিয়া উপজেলার ইউএনও নাজমুল হুদা বলেন, এমন অবস্থায় পড়তে হবে কখনো ভাবিনি। করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে মরদেহ সৎকারে কেউ সহযোগিতা করেননি। বাবার সৎকারে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলের এই আচরন, ভাইয়ের পরিবারের লোকের আচরন আমাকে কষ্ট দিয়েছে। সাংবাদিকের সহায়তায় মরদেহ বের করা, শ্বশানে উঠানে আমাকে নিজের হাতেই করতে হয়েছে।

দেশজুড়ে
১০ মে ২০২০