করোনায় ভেঙ্গে পড়েছে শেরপুর জেলার সাস্থ সেবা!

জেলা প্রতিনিধি | প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০২০ , ৩:৩৪ অপরাহ্ণ

শেরপুর জেলার মোট ৫টি সরকারি হাসাপতাল’ই লকডাউন। করোনা ভাইরাসের কারণে  মানুষজন সাধারণত হাসপাতাল এড়িয়ে চলছে তবে বিশেষ প্রয়োজনেও মানুষ কোথাও চিকিৎসা পাচ্ছে না, প্রাইভেট চেম্বারে বসছেন না ডাক্তাররা। সব মিলিয়ে করোনার কারণে তছনছ হয়ে পড়েছে জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। শেরপুর জেলায় মোট করোনায় আক্রান্ত ১৫ জনের মধ্যে ৮ জনই স্বাস্থ্য বিভাগের। আক্রান্ত হয়েছে জেলার সিভিল সার্জন অফিসের কর্মচারী। এ নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শেরপুরের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল, নকলা উপজেলা  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিভিল সার্জন অফিস লকডাউন করা হয়েছে।

এদিকে, উপজেলা শ্রীবরর্দী ঝিনাইগাতি ও নালিতাবাড়ী হাসপাতালের তিন কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো লকডাউন অবস্থায় আছে। করোনার কারণে সকল বেসরকারি ক্লিনিকগুলোও বন্ধ। জানা গেছে, চলতি মাসের ৫ তারিখে শ্রীবরর্দী হাসপাতালের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারি করোনায় আক্রান্ত হয়। কদিন পর ঝিনাইগাতি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার এরপর নালিতাবাড়ী হাসাপতালের কর্মরত এক ব্র্যাক কর্মীর শরীরে করোনার অস্তিত্ব মেলে। এ নিয়ে এই তিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লকডাউন করা হয়। যদিও দাবি করা হচ্ছে সীমিত সেবা দেয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ শুক্রবার ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে পরীক্ষায় নকলা হাসপাতালের দুই তরুণ ডাক্তার, সিভিল সার্জন অফিসের কর্মচারি ও শেরপুর সদর হাসপতালের অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়। এখন লকডাউন হলো শেরপুর ও নকলা হাসপাতাল। চার দিকে করোনা আতঙ্কের কারণে মানুষজন সাধারণ অসুখে হাসপাতালে আসতে চায় না।

আরো পড়ুন

হাসপাতালের ডাক্তার নার্স কর্মচারিরা আতংক গ্রস্থ।বিশেষ জরুরী প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে যাদের চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসতেই হয় তাদের জন্যও জেলার প্রধান স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি লক ডাউনের কারনে সেবার দরজা বন্ধ হয়ে গেল।শুক্রবার রাত( ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত)সদর হাসপাতালের সরজমিনে দেখা গেছে উপায় অন্তর না পেয়ে বিশেষ প্রয়োজনে দূর দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা(হাতপা ভাঙ্গা,প্রসব জনিত,বিষ খাওয়া,গলায় কাঁটা ফোটা) মানুষের আহাজারি। লকডাউনের কারণে হাসপাতালের সব গেট বন্ধ, তাল লাগিয়ে নোটিশ ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে জরুরি বিভাগের সামনে। নোটিশে লেখা হয়, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার করোনায় আক্রান্ত তাই হাসপাতাল লকডাউন করা হলো। তারপর থেকেই জরুরি বিভাগের সকল সেবা বন্ধ হয়ে যায়।  জরুরি বিভাগের বাইরে রোগীর চিৎকার। তালা বন্ধ ডাক্তার ও সহকারীদের অসহায়ত্ব, রোগীর স্বজনদের ও সাধারণ মানুষের আফসোস সব মিলিয়ে জরুরি বিভাগ প্রাঙ্গন হয়ে উঠে বিভীষিকাময়। জেলা লকডাউন, হাসাপাতাল লকডাউন, মানুষ কাতরাচ্ছে- কারো যেন কিছু করার নেই।

জেলার সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্বাবধায়ক বলেন, হাসপাতালের কর্মরতা কর্মচারির শরীরে করোনা মিলেছে। উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে আছে হাসাপাতাল। চিকিৎসা দিতে গেলে রোগীরা করোনায় আক্রান্ত হতে পারে। লকডাউন চলছে কিছুই করার নেই। রোগীদের ময়মনসিংহ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। জেলার স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি স্থানীয় এমপি হুইপ আতিউর রহমান আতিক বলেন, অনতিবিলম্বে কোন না কোন ব্যবস্থা করে মানুষের জরুরি সেবা দিতে হবে। এই ব্যাপারে সিভিল সার্জনকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

দেশজুড়ে
১৮ এপ্রিল ২০২০