নড়াইলে আ্যপস এর মাধ্যমে কৃষকের ধান সংগ্রহে বেশির ভাগ তালিকা’ই ভূয়া

জেলা প্রতিনিধি | প্রকাশিত : ১৫ জুলাই ২০২০ , ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

নড়াইলে প্রকৃত কৃষকের নাম বাদ দিয়ে শতশত ভুয়া কৃষক,বোরো আবাদ না করা চাষী এবং মৃতব্যক্তির নামে তালিকা তৈরি হওয়ায় বাধাগ্রস্থ হয়েছে ধান সংগ্রহ।

এবছর ১মে থেকে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত মোট ৮,০৮১ মেট্রিক টন বোরোধান সংগ্রহ করার কথা থাকলেও জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ধান সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৬০৯ মে.টন,যা মোট সংগ্রহের ৮ভাগ।

সদরের পাইকমারী গ্রামের ভ্যানচালক টিপু বিশ্বাসের একচিলতে জমি নাই অথচ স্ত্রী পিয়ারী বেগমের নাম উঠেছে চন্ডিবরপুর ইউনিয়নে তালিকার ৯৪ নম্বরে। গ্রামের মিনা বেগমের নাম রয়েছে ৯৩ নম্বরে, বিধবা এই নারীর অল্প জমিতে ৫ মন ধান ফলেছে অথচ তাকে দিতে হবে একটন।

২ নং তালিকায় আকরাম হোসেনের ১৬০০ কেজি ধান দেবার কথা অথচ বোরো চাষই করেননি। নাওরা গ্রামের হিরু শেখের ১৬০০কেজি ধান দেবার কথা থাকলেও ধান উৎপন্ন হয়েছে ২০ মন। ১০৩ নম্বরে থাকা রতডাঙ্গা গ্রামের অসিম অধিকারী,৭৮ নম্বরের মুকুল মোল্যা,১১৪ নম্বরের তারা মিয়া,এদের নামে ১৬০০ থেকে ২৪০০ কেজি করে ধান বিক্রির তালিকায় নাম উঠলেও ধানই নাই তাদের।

আরো পড়ুন

পিয়ারী বেগম ক্ষোভের সাথে বলেন,বছরে একছটাক ধান ও চোখে দেখিনা এতো ধান কোথায় পাবো? আমাদের নাম দিয়ে যারা জালিয়াতি করছে তাদের উপযুক্ত শাস্তি চাই। এদের মতো কয়েক’শ জনের নাম রয়েছে সংগ্রহের তালিকায়, যাদের জমি নাই কিম্বা বোরো চাষই করেন নি।

মৎসজীবি আকরাম বলেন,খালে-বিলে মাছ ধরি,বোরো চাষের সময় কৈ,শুস্ক মৌসুমে আমনের সময়ে কিছু বর্গা জমি করি,এখন ধান গোডাউনে দিতে গেলে বাজার থেকে কিনে দিতে হবে।

মুলিয়া ইউনিয়নের তালিকায় ডজন খানেক মৃত ব্যক্তির নাম,তালিকার ৪০ নম্বরে ভবেন বিশ্বাস,৬০ নম্বরে ঠাকুরদাস মালাকার, বিনয় বিশ্বাস,৭৭ শশধর বিশ্বাস, ৭৮ নম্বরের কাজল বিশ্বাস,৯৫ নম্বরের শিশুবর বিশ্বাস মারা গেছেন। এর  মধ্যে কাজল বিশ্বাস মারা গেছেন প্রায় ২০ বছর আগে।

শশধর বিশ্বাসের ছেলে দিপংকার বিশ্বাস বলেন,আমার বাবা ৮ বছর আর কাকা কাজল  বিশ্বাস ২০ বছর আগে মারা গেছেন এদের নাম কিভাবে তালিকায় আসলো জানিনা, বাবা-কাকার নামে কারা ধান দেয় তাও জানি না। আমাদের গোলায় ধান আছে অথচ গুদামে ধান দিতে পারছি না।

অনলাইনে লটারীর মাধ্যমে মাইজপাড়া ইউনিয়েন ৪১৫  জন কৃষকের মধ্যে ১৮৩ জনের নাম ২ বার আসায় এই ইউনিয়নের ২৫২ মেট্রিকটন ধান বেনামে রয়েছে।

যাদের ধান দেবার কথা এরকম হাজারো কৃষক বাদ পড়েছেন সংগ্রহ তালিকা থেকে। মুলিয়া ইউনিয়নের কৃষক বিপুল বিশ্বাস বলেন,আমার আইডি কার্ডসহ ইউনিয়ন পরিষদে জমা দিলাম অথচ তালিকায় আমার নামই আসেনি। আমরা সরকারী সুবিধা পেলাম না।

মুশুড়িয়া গ্রামের কৃষক সাধু বিশ্বাস,প্রবীণ শশ্মান হাজরা বলেন,আমরা সারাবছরই ধান উৎপাদন করি। বোরো মৌসুমে ৮০/৯০ মন ধান ও পাইছি অথচ কোনদিনও আমরা ধান দিতে পারি না। আমাদের ধান কিনে নিয়ে এলাকার কিছু লোক গোডাউনে দেয়।

দেশজুড়ে
১৫ জুলাই ২০২০