এখন কোথায় আশ্রয় মিলবে অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটির?

উপজেলা প্রতিনিধি | প্রকাশিত : ০৮ জুন ২০২০ , ১১:২০ পূর্বাহ্ণ

লোহাগড়া, নড়াইল || আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী ইতি খানমকে (২০) স্বামী নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিল। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গত পাঁচদিনে হাসপাতালে তাঁর স্বজনেরা তাঁকে দেখতে আসেনি।

ইতি খানম নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামে হারুন অর রশিদের মেয়ে। এ উপজেলার ইতনা গ্রামের একই গ্রামের বাসিন্দা মামতো ভাই তিতাস কাজীর (৩০) সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়। তিতাস কাজী ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। এর আগে তিতাস কাজী তিনটি বিয়ে করেছেন। দুই স্ত্রী নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। আরেকজন মারা গেছেন।

ইতির পরিবার জানায়, গত এক বছর ধরে ইতিকে তাঁর স্বামী প্রায়ই নির্যাতন করে। গত ১ জুন তালাক দেওয়ার জন্য তাঁর স্বামী বাড়িতে কাজী ডেকে নেন। তালাকে স্বাক্ষর না করায় সারাদিন মারধর করে বিকেলে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তাঁর স্বামী। সন্ধ্যায় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করে। তাঁর শ্বশুর বাড়ির পরিবার খুব প্রভাবশালী। জোর করে পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাকে বিয়ে করে দুই বছর আগে। বিয়েতে মেয়েটি রাজি না হয়ে আত্মীয় বাড়ি গিয়ে পলায়। সেখান থেকে ধরে এনে তাঁকে বিয়ে দেওয়া হয়।

ইতির বাবা হারুন অর রশিদ বলেন, ‘তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন খুবই খারাপ। হাসপাতালে দেখতে গেলে বা তাঁর খোঁজ-খবর নিলে আমাদের ওপর যে চাপ দেবে তা সহ্য করার ক্ষমতা আমাদের নেই। তাই মেয়েটির খোঁজ নিতে যায়নি।’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইতি বলেন, আমি এখন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমার বাবার বাড়ি থেকে তাঁকে তালাক দিতে বলে। আমি এতে রাজি না হওয়ায় বাবার বাড়ি থেকে আমার খোঁজ নিচ্ছে না। শ্বশুর বাড়ি থেকেও তালাক দিতে চায়। কিন্তু আমি স্বামীর সংসার করতে চাই। হাসপাতালে আসার পর আমার কোনো আত্মীয়-স্বজন আমার খোঁজ নেয়নি। আমি এখন কোথায় আশ্রয় পাবো?

আরো খবর:

ইতির স্বামী তিতাস কাজীর মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। লোহাগড়া থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, ‘তাঁকে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তাঁর শ্বশুরবাড়ি তালা দেওয়া। ঘটনার পর তাঁরা পালিয়েছে। তাঁর স্বামীকে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

দেশজুড়ে
৮ জুন ২০২০