শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটের সামাজিক দূরত্বের না মেনেই পাদ্ম পাড়ি

জেলা প্রতিনিধি | প্রকাশিত : ০২ জুন ২০২০ , ১০:০২ অপরাহ্ণ

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশী যাত্রী নিয়েই পাদ্ম পাড়ি দিয়েছে বেশির ভাগ লঞ্চ। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো শিমুলিয়া ঘাটে নোঙরের আগেই দেখা গেছে, যাত্রীদের প্রচন্ড রকম ভিড়ের দৃশ্য। যাত্রীদের অভিযোগ স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও অনেক গুন বেশী যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, উত্তাল পদ্মায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন শুধু করোনা ঝুঁকি বাড়াবে না, দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে লঞ্চ মালিক সমিতির লোকজনের দাবি, যাত্রীরাই সচেতন না। ধারণ ক্ষমতার বেশী যাত্রী বহন করা হচ্ছে না। শিমুলিয়া ঘাটে লঞ্চ ভিড়লে ভেতরে থাকা যাত্রীরা সামনে চলে আসায় অতিরিক্ত যাত্রী মনে হচ্ছে।

একটি লঞ্চের সুপারভাইজার আব্দুর রহিম জানান, তাদের লঞ্চের ধারণ ক্ষমতা ১৮৬ জন। তবে এ সময় উপস্থিত লোকজন জানান, এই লঞ্চটিতে ৩ থেকে সাড়ে ৩শ যাত্রী বহন করা হয়েছে।

আরো পড়ুন

মাওয়া নৌ-ফাঁড়ির আইসি ও পরিদর্শক মো. সিরাজুল কবীর জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নৌ-রুটে অভিযান চালানো হয়। এ সময় শিমুলিয়া ঘাট থেকে যাত্রীদের শরীরে জীবানুনাশক স্প্রেসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কম সংখ্যক যাত্রী নিয়ে লঞ্চসহ নৌযানগুলো ছেড়ে যায়। অথচ কাঁঠালবাড়ি ঘাটে এ স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। সেখান থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে এসে ভিড়ছে লঞ্চগুলো। এ অবস্থায় পুলিশের যৌথ অভিযানে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় ৯টি লঞ্চকে আটক করা হয়। পরে লৌহজং উপজেলা ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. রাশেদুজ্জামান ভ্রাম্যমাণ আদলত পরিচালনা করে ৯টি লঞ্চের সারেং ও কেরানীদের অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এরমধ্যে ৬ জনকে ৫ হাজার টাকা করে ৩০ হাজার এবং ৩ জনকে ৬ হাজার করে ১৮ হাজারসহ মোট ৪৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানায়, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ৮৭টি ফেরি ও সাড়ে ৪শ’ স্পিডবোট চলাচল করছে। এছাড়া ১৪টি ফেরি সচল রেখে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।

দেশজুড়ে
২ জুন ২০২০